কপ ৩০ সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ে বের করার স্পষ্ট রোডম্যাপ করতে ব্যর্থ হয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। ২৪ দেশের সমর্থন সত্ত্বেও কেন চূড়ান্ত ঘোষণায় অগ্রগতি হয়নি, সান্তা মার্তায় নব উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন।
২৪টি দেশের সমর্থন সত্ত্বেও স্পষ্ট রোডম্যাপ হয়নি, নব উদ্যোগ সান্তা মার্তায়
ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত কপ ৩০ জলবায়ু সম্মেলন জীবাশ্ম জ্বালানি সম্পূর্ণরূপে পর্যায়ে বের করার বিষয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হয়েছে। দু’সপ্তাহের তীব্র আলোচনার পর ‘বেলেম ডিক্লারেশন অন গ্লোবাল গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন’ ঘোষণা করা হলেও এতে জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ে বের করার কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ রাখা হয়নি ।
৮০ দেশের জোট সঙ্কুচিত হয়ে ২৪-এ
জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ে বের করার রোডম্যাপের পক্ষে ৮০টির বেশি দেশ প্রাথমিকভাবে সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু আলোচনার শেষ পর্যন্ত এই জোট সঙ্কুচিত হয়ে দাঁড়ায় মাত্র ২৪টি দেশে: অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, কম্বোডিয়া, চিলি, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ডেনমার্ক, ফিজি, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জামাইকা, কেনিয়া, লুক্সেমবার্গ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, মেক্সিকো, মাইক্রোনেশিয়া, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, পানামা, স্পেন, স্লোভেনিয়া, ভানুয়াতু এবং টুভালু ।
প্রধান বাধাগুলো কী ছিল?
সৌদি আরব, রাশিয়া, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরোধিতার মুখে শক্তি খাতে স্পষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার সব উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোর নেতাদের অনুপস্থিতি এবং জাতিসংঘের ঐকমত্য-ভিত্তিক কাঠামো এ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এছাড়া কপ ৩০-এ জীবাশ্ম জ্বালানি লবিস্টের সংখ্যা ছিল রেকর্ড ১ হাজার ৬০০ জন, যা আয়োজক দেশ ব্রাজিল ছাড়া সব দেশের প্রতিনিধি সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে ।
বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন
জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জের সাবেক সিনিয়র আলোচক ম্যানুয়েল রদ্রিগেজ-বেসেরা বলেন, “৩০ বছর পরেও তেল শিল্পের হাতেই প্রাধান্য রয়ে গেছে। জীবাশ্ম জ্বালানি নির্মূলের কোনো রোডম্যাপে সম্মত হয়নি, অর্থায়নে প্রকৃত অগ্রগতি হয়নি, এমনকি বন উজাড়ের বিষয়টিও সমাধান হয়নি।”
৩৫০.অর্গ-এর লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ানের পরিচালক ইলান জুগম্যান বলেন, “এটি অগ্নিসংযোগকারীদের দমকল বিভাগে আমন্ত্রণ জানানোর মতো।”
সান্তা মার্তা সম্মেলন: নতুন আশা?
বেলেম ঘোষণাপত্রে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে যে “জলবায়ু পরিবর্তনে জীবাশ্ম জ্বালানির ভূমিকা মোকাবিলায় পরিপূরক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগ প্রয়োজন।” এই প্রেক্ষাপটে কলম্বিয়া ও নেদারল্যান্ডস এপ্রিল মাসে সান্তা মার্তায় ‘জীবাশ্ম জ্বালানি ধীরে ধীরে নির্মূলের প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন’ আয়োজন করতে যাচ্ছে। এটি জাতিসংঘ প্রক্রিয়ার বাইরে অনুষ্ঠিত হবে ।
ফসিল ফুয়েল নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি ইনিশিয়েটিভের পরিচালক অ্যালেক্স রাফালোভিচ বলেন, “এমন একটি ছোট দেশের গ্রুপ প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে। তবে সান্তা মার্তা রাজনৈতিক চাপ বজায় রাখার জন্য একটি কার্যকরী হাতিয়ার হতে পারে।”
সূত্র: বুলেটিন অফ দ্য অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টস, জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কনভেনশন (UNFCCC)
